Thursday, May 16, 2013

ঘূর্ণিঝড় কী ও কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে।



ঘূর্ণিঝড় কী?

কোন জায়গার বাতাস গরম হলে তা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং ঐ জায়গায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়৷ তখন চারদিকের ঠান্ডা ও ভারী বাতাস প্রবল বেগে সেদিকে ছুটে আসে এবং ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে৷ এই প্রবল বায়ু প্রবাহকেই ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন বলে৷ বিভিন্ন দেশে ঘুর্ণিঝড়ের বিভিন্ন ধরনের নাম রয়েছে,যেমন উত্তর আমেরিকায় হারিকেন,দূরপ্রাচ্যে টাইফুন এবং আমাদের দেশে একে সাইক্লোন বা ঘুর্ণিঝড় বলে৷ মাসুদউর
ঘূর্ণিঝড় কেন হয়
প্রখর রোদ ও অত্যধিক তাপে কোনো জায়গার বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে ঐ স্থানে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়৷ এই ফাঁকা জায়গা পূরণ করার জন্য চারদিকের ঠান্ডা ও ভারী বাতাস মেঘসহ প্রবল বেগে ছুটে আসে এবং ঘুরতে ঘুরতে শূণ্যস্থানে প্রবেশ করে৷ ঘুরতে ঘুরতে ছুটে আসা বাতাসের এই প্রবাহকেই ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন বলে৷ ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বাতাস থাকেনা প্রবল বৃষ্টিপাতও হয়৷ 
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন ২৭ ডিগ্রী সেঃ বেশি হয় তখন ঘূর্ণিঝড় হবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে৷ যে সকল সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেঃ এর কম সেখানে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় না৷
  • সমুদ্রে যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় তাকে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বলে৷ আর স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তাকে কালবৈশেখী ও টর্নেডো বলে৷
  •  সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যে উপকূল অতিক্রম করে৷ আবার অনেকসময় ঘূর্ণিঝড় সমুদ্রেই দুর্বল হয়ে পরে উপকূলে আঘাত হানে না৷
  • সাধারণত বাংলাদেশে বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ ও আশ্বিন-কার্তিক মাসে ঘূর্ণিঝড় হয়৷ অধিকাংশ ঝড়ের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগরের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকায়৷
বাতাসের বেগ বা গতি অনুসারে আমাদের দেশে ঘূর্ণিঝড়কে কয়েকটি শ্রেণীতে

Wednesday, May 15, 2013

মানসিক চাপ কমানোর ১০ টিপস্‌



ব্যস্ততার জীবনটাতে কত তুচ্ছ বিষয় যে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে সেটা আর তাদের বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। এ বিরক্তিও সৃষ্টি করে মানসিক চাপ। তবে চাপ যেভাবেই আসুক না কেন সেটা নিয়ন্ত্রণে আনাটা বেশ জরুরি। মানসিক চাপ কমাতে আজ আপনার জন্য রইল ১০টি কৌশল।
১. মানসিক চাপের যত উৎস আছে সেগুলো খুঁজে বের করুন আর সমাধান করে নিন। যদি ভিড়টা আপনার কাছে বড় বিরক্তি লাগে তবে বাজার করতে খোলা বাজারে না গিয়ে সুপার মার্কেটে যান বা লোকাল গাড়ির ঠেলাঠেলি ছেড়ে সিটিং গাড়িতে যাতায়াত করুন। এসবে অন্তত ভিড়টা কিছু কম হবে। আসতে-যেতে যেসব বস্তু আপনার বিরক্তির কারণ সেগুলোকে এড়িয়ে চলুন।
২. যদি অবস্থাটা এমন যে কাজে দেরি হওয়াটা যেন শনি গ্রহের মতো লেগে গেছে আপনার সঙ্গে। তবে একখণ্ড কাগজ আর একটা কলম হাতে নিয়ে বসুন। হিসাব করে দেখুন সারা দিন কত সময় আপনি কোন কাজে দিচ্ছেন। কাজে বের হতে কি দেরি করছেন? সব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে দেখুন। যদি এমন হয় যে, কিছু কাজের জন্য ঠিক পরিমাণ সময় পাওয়া যাচ্ছে না তাহলে আপনি সত্যিই অনেক বেশি কাজ করছেন। এ রকম হলে কিছু কাজ কমিয়ে নেয়াটাই ভালো হবে।
৩. বাজি ধরে খেলার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলুন। এতে অনেক সময় বাড়তি মানসিক চাপ এসে পড়ে। তাই কেউ বাজিতে খেলতে এলে সরাসরি তাকে নাকচ করুন। বিশেষ করে যে খেলায় আপনি জানেন যে নিজে হেরে যাবেন সেখানে ভুলেও বাজি ধরতে যাবেন না।
৪. মানসিক যন্ত্রণাটা কিছুতেই না কমলে ঘুমাতে চেষ্টা করুন। নীরব কিছু সময় হয়তো আপনার সমস্যাটাকে সহজভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দেবে। আর যেসব মানুষ আপনার মানসিক চাপটা বাড়াতে পারে তাদের এড়িয়ে চলুন। কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে যদি আপনার খুব ভালো আন্তরিকতা না থাকে অথচ কিছু সময় আপনাকে বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে কাটাতে হয়, তবে এমন সময় চেষ্টা করুন অন্য কাউকে আপনাদের পাশে রাখতে। এতে তার সঙ্গে কোনো রকম সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৫. অন্যরা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে প্রতিযোগিতায়। আপনি আরো প্রবলভাবে প্রতিপক্ষকে হারাতে চান। শুরু হয় আপনার মনের ওপর চাপ। হারলেও এ চাপ স্থায়ী হয়। অন্যরা যত সহজ কথা বলে আপনার ওপর মানসিক চাপ চাপিয়ে দেয় কাজটা তত সহজ নাও হতে পারে। তাই অযথা মানসিক চাপ নেবেন না। কারো প্রতি ঈর্ষা করার অর্থ নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা।
৬. নিত্যদিন যেসব উপকরণ ব্যবহার করতে হয় তা ব্যবহারে একটু সচেতন হতে হবে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অন্য কিছু আপনার প্রতিদিনের কাজগুলোকে আরো সহজ করে তোলে। তবে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। তাই কোনো উপকরণ কেনার আগে নিশ্চিত হন সেটি আসলেই আপনার জীবনকে সহজ করছে কি না। মনে রাখবেন, জিনিসপত্রের যত্ন নেয়া অথবা নষ্ট হলে তা সারানোর জন্য ছোটাছুটি কিন্তু অনেক সময় বড় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সৃষ্টি হয় মানসিক চাপের।
৭. যত যাই হোক চেষ্টা করবেন একসঙ্গে একের বেশি কাজ যেন করতে না হয়। যেমন যখন পড়াশোনা করছেন সে সময় গান না শোনাটাই ভালো।
৮. মাঝেমধ্যে নিজেকে বোঝান যে এখন কোনো কাজ না করাটাই ঠিক। তাতে অন্তত কিছু সময় মানসিক প্রশান্তি পাবেন। এতে অনেকাংশে মানসিক চাপ লাঘব হবে।
৯. নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যথা, সর্দি, পেট ব্যথায় আপনি বিধ্বস্ত। তবে এত কিছুর পরও মনে রাখবেন, যদি মানসিক চাপটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারেন তবে শারীরিক এ অসুস্থতাগুলো বেড়ে দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে।
১০. অস্থিরতা যদি বাড়তে থাকে, মানসিক চাপ যদি আঁকড়ে ধরে তবে শুধু শুধু নিজের সঙ্গে না লড়ে কোনো ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।